দেশের বর্তমান জ্বালানি অস্থিরতা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দায়ী বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে 'অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ' (এ্যাব)-এর এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কথিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।

রুহুল কবির রিজভী জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। তিনি উদাহরণ হিসেবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যেখানে মাইন বা বোমার আশঙ্কায় তেলের জাহাজগুলো চলাচল করতে চাইছে না। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বিরোধী দলগুলো এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রচার চালাচ্ছে, তাকে 'জঘন্য অপপ্রচার' হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

সরকারের ভর্তুকির বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করার পরেও রাষ্ট্রকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে ডিজেলের ক্রয়মূল্য ২০৫ টাকা হলেও তা সাধারণ মানুষের কাছে ১৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের এক আলোচনা সভায় তিনি বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে চারশটি গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরে যাত্রা করা সম্পদের চরম অপচয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের প্রতি প্রকৃত দরদ থাকলে বিরোধী দলগুলো এভাবে জ্বালানি অপচয় না করে বরং তা সাশ্রয় করার চেষ্টা করত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চে ব্যবহৃত অনেক গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-এনসিপি জোটবদ্ধ হয়ে বাসে-ট্রেনে আগুন দেওয়ার মতো ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে এবং এর জন্য ভাড়াটে লোক ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ্যাব-এর বিক্ষোভ মিছিলে কৃষিবিদ কামরুজ্জামান কায়সার, শাহাদাত হোসেন, নুরুন্নবী শ্যামলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় মুসলিম লীগের (একাংশ) সভাপতি নাসিম খানের সভাপতিত্বে মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম মাওলা চৌধুরী ও খোকন চন্দ্র দাসের মতো নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।