দেশের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের চরম অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসান ও ভর্তুকির চাপ কমাতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সরকার ‘বাধ্য’ হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়।
বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে এবং বাজার অত্যন্ত উদ্বায়ী। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার লোহিত সাগর ও বাব এল মানদেব প্রণালীর সংকট, হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণ, সৌদি আরবের রপ্তানি সীমাবদ্ধতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি খাতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির লোকসান ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এর ফলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা এবং বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছিল। বর্তমানে লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও তারপরেও সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য নির্ধারিত ৪৮ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির অর্ধেকই শেষ হয়ে গেছে প্রথম আড়াই মাসেই। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে কেবল জ্বালানি খাতেই সরকারের দেনা ১.২৫ থেকে ১.৫ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যাবে।
পরিবহন খাতের প্রভাব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের তুলনায় ডিজেলের ব্যবহার ও ভর্তুকি অনেক বেশি, তাই ডিজেলের লোকসান কমানো ছিল প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের কষ্ট ও লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনের কথা মাথায় রেখেও রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষায় অক্টোবর থেকে পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পরিধি বাড়ানো এবং ওএমএসের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




