জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়পুরহাট সদর উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কালাই উপজেলা দল। শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই গোল করতে না পারায় টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারিত হয়। টাইব্রেকারে কালাই উপজেলা দল চারটি গোল করে এক গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে এবং রানার্সআপ হয় সদর উপজেলা দল।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রিয় দলের সমর্থন দিতে কালাই থেকে ১৪টি বাসে করে প্রচুর ফুটবলপ্রেমী স্টেডিয়ামে আসেন। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক দর্শক পার্শ্ববর্তী বাড়ির ছাদ ও চিলেকোঠায় বসে খেলা উপভোগ করেন। দর্শকদের যাতায়াতের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর মধ্যে কালাইয়ের তালুকদারপাড়া এলাকার আইনজীবী নাফিউজ্জামান তালুকদার নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচটি বাসের ব্যবস্থা করেন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ২০০টি জার্সি উপহার দেন। জয়ের পর তিনি দলের এই সাফল্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি জেলা প্রশাসন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা গৌতম সরকার জানান, নকআউট পদ্ধতিতে পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করেছিল। প্রতিদিন একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শুক্রবারের ফাইনালের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি সমাপ্ত হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, টুর্নামেন্টের সব দলের খেলা ছিল মানসম্মত এবং এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মোবাইল আসক্তি কমাতে সাহায্য করবে।
ম্যাচটির উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুবসমাজকে মাদক এবং অপরাধের হাত থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্ট তাদের সম্পৃক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
খেলার শেষে এক সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের ট্রফি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব গোলজার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব।




