রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মাদক ও অস্ত্রচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এর মধ্যে চারটি অস্ত্র বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত রোববার রাতে পরিচালিত অভিযানে পুলিশ আরও চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং বারোটি তাজা গুলি জব্দ করতে সক্ষম হয়। ওই সময় ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মাদক ঢাকায় প্রবেশ করছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ মাতুয়াইলের মুক্তি পেট্রলপাম্পের সামনের সড়কে একটি চেকপোস্ট বসায়। সেখানে সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের দেহ ও যানবাহন তল্লাশি করে তাৎক্ষণিক কোনো মাদকদ্রব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের কাছ থেকে গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাদক ও অস্ত্র লুকানো থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে। সেখানে দ্রুত অভিযান চালিয়ে খাটের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও বারোটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার এবং ছয়টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ জানায়, তারা হলেন সজীব (২৮), হিমু (৩২), তুষার (২৫), জয় (২৫), টুটুল (৩৩) ও ইমরান (৩৪)। ডিএমপি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, আটক সজীব রাজধানীর ওয়ারী এলাকার কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই। সজল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ সজীবের হাতে চলে আসে। বর্তমানে আটক সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর পূর্বে গত ২ মার্চ অবৈধ মাদক উদ্ধারের একটি অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলভার, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়। আদালতে দেওয়া ওই তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলা হয়, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সজল সরবরাহ করেছিল। এরপর গত ১৮ জুন সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামীবাগ এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুইটি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭টি তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চের অভিযানে উদ্ধার হওয়া তিনটি অস্ত্র, ১৮ জুনে জব্দ হওয়া দুইটি পিস্তল এবং সর্বশেষ রোববারের অভিযানে পাওয়া চারটি পিস্তল মিলিয়ে একই চক্রের কাছ থেকে মোট নয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই নয়টির মধ্যে চারটি অস্ত্র থানার লুটের বলে নিশ্চিত করেছে ডিএমপি।




