কুরবানি ঈদের পরবর্তী সময়ে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভ্রমণের এক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন গাজীপুর জেলার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। মাত্র ৫০ টাকা টিকিটে ভেতরে প্রবেশ করেই তিনি এক ভিন্ন জগতের সম্মুখীন হন। চিড়িয়াখানার প্রবেশপথ পেরিয়েই তার চোখে পড়ে একটি বিশাল খোলা প্রান্তর, যেখানে একদল চিত্রা হরিণ বিচরণ করছিল। জীবনে প্রথমবারের মতো খুব কাছ থেকে জীবন্ত হরিণ দেখার সুযোগ হওয়ায় এবং তাদের শান্তভাবে খাবার খাওয়ার দৃশ্যতে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হন।
ভ্রমণের পরবর্তী ধাপে তিনি সজারুর খাঁচায় তিনটি সজারু দেখতে পান। এরপর একে একে তার দৃষ্টি কাড়ে বাঘ, সিংহ, গণ্ডার, হায়েনা, উটপাখি, ভোঁদর এবং সাদা ময়ূরের মতো বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তাকে ধরে রাখে সাদা কাক এবং জিরাফ। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২০ ফুট লম্বা গলার জিরাফগুলোর গাছের পাতা খাওয়ার ভঙ্গি তাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। ওই একই স্থানে তিনি বিশেষ আকর্ষণ অ্যালবিনো জাতের মহিষ 'ডোনাল্ড ট্রাম্প'-এর দেখা পান। এই বিরল প্রাণীটিকে দেখার জন্য দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল এবং অনেকেই ভিড় করে প্রাণীটিকে দেখার চেষ্টা করছিলেন।
তবে এই আনন্দদায়ক ভ্রমণের মাঝে কিছু বেদনাদায়ক দৃশ্য তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। খাঁচাবন্দি প্রাণীদের জীবন দেখে তার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, বনের মুক্ত পরিবেশ কি এই ছোট খাঁচার ভেতর পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কিছু দর্শনার্থীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি লক্ষ্য করেন, অনেক পর্যটক নিরাপত্তা বেষ্টনী অমান্য করে হিংস্র প্রাণীদের খুব কাছে চলে যাচ্ছেন কেবল ছবি তোলার জন্য। এভাবে বিভিন্ন প্রাণীর বিস্ময় এবং কিছু উদ্বেগের মধ্য দিয়ে পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে এলো, তা তিনি বুঝতেও পারেননি।




