জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের কার্যকাল শুরু করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশকের ব্যবধানে আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো। এর আগে ১৯৮৬ সালে ৪১তম অধিবেশনে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যিনি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে খলিলুর রহমান তার লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের সমস্ত সমস্যার দ্রুত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন না। কিছু জটিল সমস্যা হয়তো দীর্ঘসময় অমীমাংসিত থেকে যাবে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে সহাবস্থানের চেষ্টা এবং সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট জানান, চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং নতুন সুযোগগুলো কাজে লাগাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। সদস্য দেশগুলো যদি একযোগে কাজ করে, তবে তার দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়া খলিলুর রহমান জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক সংস্থার সংস্কারের যে প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। একইসাথে জাতিসংঘের কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
ব্রিফিং চলাকালীন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে তিনি সরাসরি এই সংকট পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং রোহিঙ্গাদের কষ্ট ও স্বদেশে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন অনুষ্ঠিত সভাপতি পদের নির্বাচনে খলিলুর রহমান ৯৯টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।




