জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার সকালে 'গরুভোজ' কর্মসূচির আয়োজন করেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন এবং গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে এই পশু জবাইয়ের ঘটনা ঘটে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের মাঝে গরুর মাংস ও খিচুড়ি বিতরণ করা হবে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১২ অক্টোবর রাতে, যখন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনার্স শেষ করার উদযাপনে মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। যেহেতু ওই স্থানের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির অবস্থিত, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, মন্দিরের সামনে এই রান্নার ফলে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এছাড়া চুলা তৈরির জন্য মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। তবে আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান, গ্যাসের চাপের কারণে তাঁরা বিকল্প হিসেবে কাঠের চুলা ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রক্টরের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সমাধান হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর দপ্তর থেকে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের খাদ্যাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে মনে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। এর প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানায়। জকসুর নির্বাচিত কমিটির ভিপি, জিএসসহ অধিকাংশ সদস্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবেই শুক্রবারের জন্য 'গরুভোজ'-এর ঘোষণা দেওয়া হয়। জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা জানান, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন গরুটি ক্যাম্পাসে আনা হয়, তখন শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল করে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ক্যাম্পাসে যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার সবার থাকলেও তা যেন অন্যের কাজে বাধা সৃষ্টি না করে। ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতেই প্রক্টরের পক্ষ থেকে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছিল এবং এর ফলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে এই ব্যাখ্যার পর জকসু তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রাখে। প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আজম খান বলেন, সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তিটি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নোটিশ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এই আয়োজন করা হলে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।




