ইউরোপের বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ সিস্টেমগুলোকে লক্ষ্য করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সাইবার অপরাধীরা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিক হামলার সাম্প্রতিক শিকার হয়েছে ফ্রান্স ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট (ইএফএস)। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের রক্ত সংরক্ষণের কোল্ডস্টোরেজ ইউনিটের তিনটি স্থান এই সাইবার আক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হ্যাকাররা কৌশলে ফ্রিজের তাপমাত্রা এবং ডিফ্রস্ট থ্রেশহোল্ড অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে বাড়িয়ে দেয়, যা সংরক্ষিত রক্তের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত 'কুলওয়ার্ড' নামক একটি রেফ্রিজারেশন সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল, আর ইএফএস ব্লাড ব্যাংক সহযোগী হিসেবে এর প্রভাবের শিকার হয়।

ব্লাড ব্যাংকের এই কোল্ডস্টোরেজ ইউনিটগুলো রক্ত সংগ্রহ, বিতরণ এবং বায়োব্যাংকের নমুনা সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়, যা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আশার কথা এই যে, কোনো রক্তের নমুনা নষ্ট হয়নি। হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানামাত্রই ব্লাড ব্যাংকের নজরদারি ও অ্যালার্ম সিস্টেম সক্রিয় হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে নমুনাগুলো অন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণেই রক্তের সরবরাহ নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত সুপারমার্কেটের ফ্রিজ সিস্টেমে একই ধরনের হামলা চালানো হয়। এতে বড় খাদ্যশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান 'ক্যারফুর'-সহ বেশ কিছু সুপারমার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যারফুর জানিয়েছে, তাদের ৮০টি লোকেশনে হ্যাকাররা থার্মোস্ট্যাট তাপমাত্রা ১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উন্নীত করে দেয়। সুপারমার্কেটের ক্ষেত্রে সময়মতো প্রতিরোধ করা সম্ভব না হওয়ায় লাখ লাখ ইউরো মূল্যের খাবার নষ্ট হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে আগুন লাগার মতো ঘটনাও ঘটে।

শিল্প স্তরের রেফ্রিজারেশন সিস্টেমের ওপর এ ধরনের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ বা রিমোট অ্যাক্সেস সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। হাসপাতালের রক্ত সংরক্ষণাগার থেকে শুরু করে সুপারমার্কেটের কোল্ড চেইন—সবকিছুই এখন ডিজিটাল ঝুঁকির মুখে। এই ঘটনা ইউরোপীয় স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বর্তমানে ফরাসি কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার গভীর তদন্ত শুরু করেছে।