ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন শহর ক্রামাতোরস্কে দুটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার বিধ্বংসী গ্লাইড বোমা হামলায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা। এই হামলায় আরও ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দনেতস্ক অঞ্চলের প্রধান ভাদিম ফিলাশকিন অভিযোগ করেছেন, অধিক সংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এই যাত্রীবাহী বাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। স্থানীয় প্রসিকিউটরদের প্রকাশিত ছবিতে রাস্তার ওপর পুড়ে যাওয়া বাসের ধ্বংসাবশেষ এবং নিহতদের মরদেহ দেখা গেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুরো ডনবাস শিল্পাঞ্চল দখলের যে দাবি জানিয়েছেন, তার অংশ হিসেবে ক্রামাতোরস্ক এবং পার্শ্ববর্তী স্লোভিয়ানস্ক শহর দুটিকে দখল করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। সম্প্রতি ইউক্রেনজুড়ে রুশ আক্রমণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে এখন সারাদিনই সাইরেন বাজছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ইউক্রেনে যত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, তা ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায় বেশি। গত বুধবার কিয়েভের পূর্ব দিকে প্রিলুয়ি নামক স্থানে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় পাঁচ শিশুসহ মোট ২২ জন নিহত হন, যার মধ্যে তিন শিশুর বয়স ছিল মাত্র এক বছর।
এই সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে দনেতস্ক অঞ্চলের সকল গণপরিবহন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ভাদিম ফিলাশকিন এবং ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের এবং চালকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অধিকার তাদের নেই।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিহতদের পরিবার এবং স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ইউক্রেনের সুরক্ষায় নতুন প্রতিরক্ষা প্যাকেজের মাধ্যমে তারা বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। জেলেনস্কি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, রুশ বাহিনী বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছে। যার ফলে কিয়েভের অনেক পরিবার আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন। তবে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের বিশ্বব্যাপী স্বল্পতার কারণে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা ঠেকানো ইউক্রেনের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশই একে অপরের ওপর দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের লজিস্টিক ওয়্যারহাউস এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ক্রামাতোরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন তা প্রায় প্রতিদিন রুশ আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ডানাযুক্ত গ্লাইড বোমা দিয়ে স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কে হামলা চালানো হচ্ছে। আগস্টের শেষ দিকে একদিনে ক্রামাতোরস্কে নয়টি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ক্রামাতোরস্ক সিটি কাউন্সিল এই ঘটনাকে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর এক 'ভয়াবহ অপরাধ' হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দাবি করেছে যে, যে স্থানে হামলা চালানো হয়েছে সেখানে কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না।




