২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর চালানো হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন। জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা নতুন প্রতিবেদনে এই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী দলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই 'নির্বিচার হামলা' আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন, যার ফলে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জনই ছিল স্কুল শিক্ষার্থী। জাতিসংঘের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, স্কুলটি একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা ছিল এবং এটি কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার ফলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দাবিগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে তিনি এই ঘটনার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলেন।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। এটি মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত ভুল (টার্গেটিং এরর)। বিদ্যালয় ভবনটি আগে একটি সামরিক ঘাঁটির অংশ থাকলেও, হামলার সময় সেটি বেসামরিক স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন, যা ছিল মারাত্মক ভুল। সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সামরিক ব্যর্থতা হিসেবে এই ঘটনাটি নথিবদ্ধ হতে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই স্থাপনায় একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, কিন্তু হামলার আগে ওই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, লক্ষ্যবস্তুর তথ্য হালনাগাদ না করা এবং স্থাপনাটি সামরিক কি না তা নিশ্চিত না করা কেবল সাধারণ অবহেলা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

এছাড়া, ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো মার্কিন হামলাও জাতিসংঘের মিশন তদন্ত করেছে। ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক এলাকা ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। তদন্তকারী দল এই ঘটনাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে চিহ্নিত করে একে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।