আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সম্মুখে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগতভাবে হাজির হলেন ফিলিপাইনের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান রদ্রিগো দুতার্তে। হেগে অবস্থিত আদালত প্রাঙ্গণে তার উপস্থিতি ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির কুখ্যাত মাদকবিরোধী যুদ্ধে সংঘটিত গণমৃত্যুর জন্য তাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত এই মামলায় অবশেষে বিচারিক প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুতার্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক শুনানি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তার শাসনামলে পরিচালিত নিষিদ্ধ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে পুলিশি অভিযান ও আধা-সামরিক বাহিনীর তৎপরতায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, যার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে উল্লেখ রয়েছে।
আদালতের বিচারকরা দুতার্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন এবং আসন্ন শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। আইসিসির প্রসিকিউটররা মনে করছেন, মাদকবিরোধী এই কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় নীতির আওতায় পরিচালিত হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য। দুতার্তের পক্ষে আইনজীবীরা অবশ্য অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, ফিলিপাইনের বর্তমান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির কিছু মহল এই বিচারকে দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিচারকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
দুতার্তে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার এই মাদকবিরোধী যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। আইসিসি ২০১৮ সালে এই বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল, যদিও ফিলিপাইন তখন আদালতের এখতিয়ার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আদালত পুনরায় এই মামলায় এগিয়ে আসে।
এখন দুতার্তে আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার ফলাফল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে।




