লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত আক্রমণ ঠেকাতে এবং ইয়েমেনের সরকারকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছে সৌদি আরব। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিরিয়া থেকে হাজার হাজার সেনা সৌদি আরব ও ইয়েমেনে পাঠানো হচ্ছে। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই সেনাদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে গন্তব্যে পৌঁছেছে এবং সীমান্তের দুই পাশেই শত শত সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ইয়েমেনের প্রধান সরকারি দল 'প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল'-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় প্রায় ৩,০০০ সিরীয় সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রিয়াদ ও দামাস্কাস একমত হয়েছে। সম্প্রতি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সৌদি আরব সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিভিন্ন পারস্পরিক সহযোগিতার সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে এই সামরিক সহায়তা নিশ্চিত হয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইয়েমেনের সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন সিরীয় সেনারা হুতিদের লক্ষ্য করে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করছেন। উল্লেখ্য যে, বাশার আল আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ার বর্তমান সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সৌদি আরব তার মিত্রদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিল। কারণ, হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিদের আক্রমণ তীব্র হয়েছে, যার ফলে রিয়াদ বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলার পর সেটি টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিদ্রোহীদের দমনে সিরিয়ার এই সেনা সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।