ব্রিটিশ রাজপরিবারে আবারও পুরনো কালো মেঘের আভাস দেখছেন প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেনসার। প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মর্কেলকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের যে নেতিবাচক প্রচারণা চলছে, তাকে 'ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকর' বলে অভিহিত করেছেন তিনি। বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংবাদমাধ্যমের এই অব্যাহত চাপ হ্যারি ও মেগানের পরিণতিকেও ডায়ানার মতো করুণ করে তুলতে পারে। তার মতে, ডায়ানার জীবন থেকে এই বিষয়ে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাজ্যের আলথর্প এস্টেটে বিবিসির সাংবাদিক লরা কুয়েনসবার্গের সঙ্গে আলাপকালে আর্ল স্পেনসার জানান, ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোতে ডায়ানা কিংবা হ্যারি-মেগান সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত অপ্রীতিকর ও কুরুচিপূর্ণ হয়। তিনি নির্দিষ্ট করে কারো পক্ষ না নিলেও স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিদিন গণমাধ্যমের মাধ্যমে একজন মানুষকে মানসিকভাবে ধ্বংস করা জীবনের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। বোন ডায়ানার স্মৃতিচারণ করে স্পেনসার জানান, তিনি নিজের চোখে বোনের 'হতাশার অশ্রু' দেখেছেন। ডায়ানা সমালোচনার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন এবং গণমাধ্যমের আক্রমণ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। বর্তমানে হ্যারি ও মেগানের ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়াকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রিন্সেস ডায়ানা। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন পাপারাজ্জি এবং সংবাদমাধ্যমের তীব্র নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, দোদি আল ফায়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তার স্বাধীন জীবনযাপন নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এমনকি পাপারাজ্জিদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়েই প্যারিসের সুড়ঙ্গে সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে জোরালো ধারণা করা হয়। ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোকবার্তায় আর্ল স্পেনসার অভিযোগ করেছিলেন যে, সংবাদপত্রগুলো পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে কারণ তারা ডায়ানার ব্যক্তিত্বকে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করত।
অন্যদিকে, হ্যারি ও মেগান দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সাক্ষাৎকারে হ্যারি ট্যাবলয়েডগুলোকে 'বিষাক্ত পরিবেশ' তৈরির জন্য দায়ী করেন। একইভাবে ২০২২ সালে নেটফ্লিক্স সিরিজে মেগান অভিযোগ করেন, তিনি যত চেষ্টাই করুন না কেন, সংবাদমাধ্যম তাকে ধ্বংস করার পথ খুঁজে বের করে।
রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ছয় বছর পর সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন প্রিন্স হ্যারি। তার সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ বাবা প্রিন্স চার্লসের পাশে থাকার ইচ্ছা থেকেই তার এই প্রত্যাবর্তন। যদিও তিনি এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য নন এবং পারিবারিক সম্পত্তিতে তার কোনো অধিকার নেই, তবুও ব্রিটিশ গণমাধ্যমে তাকে ও মেগানকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ট্রোলিং অব্যাহত রয়েছে। ভাগ্নের জীবনের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন আর্ল স্পেনসার।




