বর্তমান ফুটবল বর্ষে ব্যালন দ’র জয়ের দৌড়ে অন্যতম দাবিদার হিসেবে হ্যারি কেইনকে দেখছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল। বায়ার্ন মিউনিখ ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি কেইনেরই পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। আইটিভি-র এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে টুখেল দৃঢ়ভাবে জানান, ৭০টির বেশি গোল এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিনটি শিরোপা জেতার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো অর্জনের পর কেইন অবশ্যই এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।
গত মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে সম্মিলিতভাবে ৭৩টি গোল করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে বায়ার্ন মিউনিখ বুন্ডেসলিগা, জার্মান কাপ এবং জার্মান সুপার কাপের শিরোপা জয় করেছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করা গত ৬০ বছরের মধ্যে তাদের সেরা সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদি কেইন এই পুরস্কারটি জয় করেন, তবে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে তিনি এই গৌরব অর্জন করবেন। বর্তমানে এই লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লামিন ইয়ামালের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছেন তিনি।
কেইনের খেলার ধরন এবং শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন টুখেল। তার মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেইনের ধার কমছে না, বরং তিনি একজন পরিপূর্ণ ফুটবলারে পরিণত হয়েছেন। কোচ উল্লেখ করেন যে, হাই প্রেসিং থেকে শুরু করে ফিনিশিং, ডিপ বিল্ড-আপ কিংবা ডিফেন্ডিং—খেলার প্রতিটি অংশেই কেইন এখন অত্যন্ত নিবেদিত এবং শারীরিক শক্তির এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন কেইন। আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশন্স লিগের চারটি ম্যাচ খেলতে পারলে তিনি ১২৫টি ম্যাচ খেলে পিটার শিল্টনের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন। কেইনের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টুখেল জানান, ২০৩০ বিশ্বকাপেও তাকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩৭ বছর বয়সে পৌঁছালেও তা কোনো বাধা হবে না বলে মনে করেন কোচ, কারণ তার কাছে বয়স নয়, বরং কেইনের খেলার গুণগত মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




