স্কুল প্রাঙ্গণে মুঠোফোন নিষিদ্ধের নিয়ম অমান্য করে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সাথে ফোন এনেছিল। পরিণতিতে শিক্ষক কর্তৃক সেটি হাতুড়ির আঘাতে চুরমার হয়ে যায়। সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে এবং রাতেই ছাত্রদের তোলা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একজন শিক্ষক মাটিতে ফোন রেখে হাতুড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত করছেন, আর প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছে। ফোনটি ভাঙার সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষক বলেন, 'পরবর্তীতে ফোন আনতে চাইলে এই ফোনের কথা ভেবে দেখো।' বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখতে গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেখানে চুল কাটার নিয়মসহ ফোন আনার শাস্তি হিসেবে সেটি নষ্ট করে দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে লেখা ছিল। নোটিশটি সব শিক্ষককে পড়ে শোনানো হয় এবং শিক্ষার্থীদেরও অবহিত করা হয়।
নিয়ম প্রয়োগের জন্যই শিক্ষক শরীফ হোসেন ফোনটি ভাঙার পদক্ষেপ নেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, 'ফোন আনা নিষিদ্ধ, নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তবুও অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের কাছে ফোন পেয়েছি। তাই নোটিশের আলোকে সেটি সবার সামনে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।' তবে ক্ষুব্ধ অভিভাবক সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, ফোন জব্দ করে অভিভাবককে ডেকে সতর্ক করা যেত; এত কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া মোটেই সঙ্গত নয়। শিক্ষকের এমন আচরণে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।




