শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন অস্ট্রেলিয়ার এক নারী। জন্ম থেকেই দুই বাহুহীন কেরি-লি গোকেল সম্প্রতি এককভাবে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব সাঁতার কেটে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। কুইন্সল্যান্ডের ইয়েপুন উপকূল সংলগ্ন গ্রেট কেপেল দ্বীপের চারপাশে এ সাঁতারটি সম্পন্ন করেন তিনি। দ্বীপটির স্থানীয় নাম ওয়পা। গত ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এ প্রচেষ্টায় মোট ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন গোকেল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিবন্ধিতা বিভাগ এএ৩-এর অধীনে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বাধিক দীর্ঘ সাঁতার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এএ৩ শ্রেণির সাঁতারুদের নিজেদের প্রয়োজনমতো ভেসে থাকার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি থাকে। প্রয়োজনে অন্যের সহায়তাও নেওয়া যায়। সেই অনুযায়ী গোকেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আরেক সাঁতারু জোয়েপ বুইস। তিনি বিপদের মুহূর্তে সাহায্য করার পাশাপাশি পানির ভেতরে খাবার ও পানীয় সরবরাহ করেছেন। দুই হাত না থাকায় গোকেলকে চিত হয়ে সাঁতার কাটতে হয়। এগোনোর পাশাপাশি পানিতে ভারসাম্য রাখতে তিনি কেবল পায়ের ওপর নির্ভর করেন।

অ্যামেলিয়া নামে বংশগত একটি শারীরিক অবস্থার কারণে গোকেল হাতবিহীন জন্মেছেন। কর্মজীবনে তিনি কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকারের অর্থ ও রাজস্ব দপ্তরে চাকরি করেন। ২০০৫ সালে তাঁর সাঁতারের প্রশিক্ষক জেমস তাকে উন্মুক্ত জলাশয়ে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন। এর আগে তিনি স্থানীয় সুইমিংপুলে কয়েক বছর ধরে নিয়মিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই বছরের জুনে প্রথমবারের মতো খোলা পানিতে এক কিলোমিটার সাঁতার কাটেন তিনি। এরপর থেকেই খোলা জলাশয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে সাঁতারের দূরত্ব বাড়াতে থাকেন।

২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনি দুটি ১০ কিলোমিটার সাঁতারে অংশ নেন। ২০২৪ সালে স্বামী পলের সঙ্গে গ্রেট কেপেল দ্বীপের চারপাশে একটি যুগল সাঁতারে নামেন। সেখানে দুজন পালাক্রমে এক কিলোমিটার করে সাঁতার কাটেন। তবে ২০২৫ সালের ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটারের সাঁতারটি ছিল তাঁর একক প্রচেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিনি তিনটি ১০ কিলোমিটার সাঁতার এবং একটি ১৫ কিলোমিটার প্রশিক্ষণ সাঁতার সম্পন্ন করেছিলেন।

চ্যালেঞ্জিং হলেও ভালো পরিকল্পনা, কঠোর অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে দীর্ঘ এই সাঁতারটি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক মনে হয়েছে বলে জানান গোকেল। কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের ওপর বিশ্বাস ও দৃঢ়তা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই অর্জন অদম্য ইচ্ছাশক্তির জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল।