ভারতীয় ক্রিকেট দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডারের শূন্যস্থান পূরণে নতুন আশার আলো দেখছেন বোলিং কোচ মর্নে মর্কেল। হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প হিসেবে নিতিশ কুমার রেড্ডিকে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। মর্কেলের মতে, দলের এই প্রয়োজনীয় পজিশনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রতিভা নিতিশের রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন হার্দিক পান্ডিয়া। গত মে মাসে আইপিএলের পর তিনি আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারেননি। জাতীয় দলের হয়ে তাকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এবং ২০২৫ সালের মার্চে ওয়ানডে ম্যাচে। চোটের কারণে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ভারতকে পান্ডিয়ার প্রয়োজন। তাই তার ফেরার বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না ম্যানেজমেন্ট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারত 'এ' দলের ওয়ানডে সিরিজে তার নাম থাকলেও, চূড়ান্ত অংশগ্রহণ নির্ভর করছে ফিটনেস পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। প্রধান কোচ গৌতাম গাম্ভীর সম্প্রতি জানিয়েছেন, পান্ডিয়া এখনও ১০ ওভার বোলিং করার মতো শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করেননি।
পান্ডিয়ার এই অনুপস্থিতির সুযোগটি কাজে লাগানোর সুযোগ এখন নিতিশ কুমার রেড্ডির সামনে, যিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ডাক পেয়েছেন। যদিও ওয়ানডে ফরম্যাটে তার অভিজ্ঞতা সীমিত; মাত্র ৬টি ম্যাচে তিনি ১০০ রান এবং ২ উইকেট সংগ্রহ করেছেন। টি-টোয়েন্টিতেও জাতীয় দলের হয়ে ৭টি ম্যাচে ৯১ রান ও ৯টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার উন্নতি চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে আফগানিস্তান সিরিজের শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনটি করে উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।
২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বর্তমান রূপ দেখে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মর্নে মর্কেল। তিনি মনে করেন, নিতিশের উন্নতি বজায় রাখা গেলে এবং তাকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা গেলে তা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। মর্কেল জানিয়েছেন, বর্তমানে নিতিশকে মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকঠাক করা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে দলের জন্য তার ভূমিকা স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
কোচের নির্দেশনা মেনে নিতিশ এখন নিজের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি এখন বল করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শক্তির বদলে নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এড়িয়ে চলছেন। বিশেষ করে সুইংয়ের আশায় বল খুব বেশি ফুল লেংথে ফেলার প্রবণতা কমিয়ে এনেছেন। মর্কেল মনে করেন, নিতিশের সুযোগ তৈরি করার মানসিকতা প্রশংসনীয়। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো তাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং দলের প্রয়োজনে একটি সহজ ও কার্যকর ভূমিকা দেওয়া। আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।




