এক সময়ের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপি (HP) বর্তমানে তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। গত দুই দশকে ফর্চুন ৫০০-এর তালিকায় কোম্পানিটি ক্রমশ নিচের দিকে নেমেছে। ২০০৬ সালে যেখানে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্বের হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম বৃহত্তম কোম্পানি ছিল এবং আইবিএম-এর সাথে শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই করছিল, ২০২৬ সালে তাদের অবস্থান এখন ৮৪ নম্বরে। অ্যাপল, আমাজন, মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পিছিয়ে পড়ার পর এখন নতুন রণকৌশল গ্রহণ করেছে এইচপি।
নর্ডিক এবং বেনেলুক্স অঞ্চলের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (CTO) রাজেন্দ্র সিতোমপ্যুল জানান, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা কেবল হার্ডওয়্যার বিক্রির দিকে নজর না দিয়ে এখন 'সলিউশন এবং এক্সপেরিয়েন্স' বা সমাধান ও অভিজ্ঞতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের প্রকৃত সমস্যাগুলো গভীরভাবে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও পরিষেবা প্রদান করা।
২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে সিতোমপ্যুল জানান, গত ছয় মাসে তার দায়িত্বের পরিধি নর্ডিক অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তাই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেনেলুক্স অঞ্চলের সাথে নর্ডিক অঞ্চলের সমন্বয় করা। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিআইও (CIO) এবং সিটিও-দের সাথে আলোচনা করে তাদের এআই (AI) ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে সহায়তা করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রযুক্তি দলের মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা বিষয়ে তিনি বলেন, পেশাদার কর্মীদের ওপর আস্থা রাখা এবং তাদের কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি তার দলকে মনে করিয়ে দেন যে, শুধু কারিগরি স্পেসিফিকেশন বা ফিচারের পেছনে না ছুটে বাস্তব দুনিয়ায় মানুষ কীভাবে এই ডিভাইসগুলো ব্যবহার করছে এবং তা তাদের দৈনন্দিন কাজে কী প্রভাব ফেলছে, সেই দিকে নজর দিতে হবে। ল্যাপটপ, মাউস বা মনিটর কেবল যন্ত্র নয়, বরং তা কীভাবে গ্রাহকের উপকারে আসছে সেটাই আসল বিষয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে সিতোমপ্যুলের মনে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষ যেন নিরাপদ ও সুরক্ষিত উপায়ে এআই গ্রহণ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তির সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায় এবং সঠিক প্রতিক্রিয়া জানানো যায়, সেই সক্ষমতা বা 'রেজিলিয়েন্স' তৈরি করা প্রয়োজন।
কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে এই বছর কিছু বিষয়ে আপস করতে হয়েছে এইচপি-কে। সিতোমপ্যুল জানান, অনেক পরিবর্তন একসাথে না করে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা কিছু আইটি বিনিয়োগ এবং দলের কাঠামোগত পরিবর্তন আপাতত স্থগিত রেখেছেন।
নিজের সাফল্যের পরিমাপক হিসেবে তিনি একটি বিশেষ অনুপাতের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ সভার তুলনায় গ্রাহকদের সাথে সভার সংখ্যা কত বেশি, সেটাই তার কাজের প্রকৃত সাফল্য নির্দেশ করে। অভ্যন্তরীণ কাজে বেশি সময় ব্যয় করার অর্থ হলো তিনি তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন। তাই এই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।




