বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধের মতো ঘটনা দামে ক্ষণস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু যদি তেল শোধনাগার বা জাহাজ পরিবহন সক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই ধাক্কা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থায় তীব্র ব্যাঘাত ঘটবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অবরোধ সাধারণত সাময়িক হয় এবং সমাধান খুঁজে বের করা যায়। অন্যদিকে, শোধনাগার বা ট্যাংকারের মতো অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলে তা পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় ও বিপুল বিনিয়োগ লাগে। ফলে দামের ওপর সেই চাপ স্থায়ী হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বারবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা—সব মিলিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা প্রকট হচ্ছে। এর সঙ্গে যদি যুদ্ধ বা নাশকতায় শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে। পরিবহন, উৎপাদন এবং জ্বালানি নির্ভর প্রতিটি খাতে এর প্রভাব পড়বে। উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি, তবে ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তেল শোধনাগার ও জাহাজ পরিবহনের ওপর নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, সাময়িক সংকট মোকাবিলা করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি পূরণ করা অনেক কঠিন।




