মামলার নথি অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গুলশানের শাহাজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। এই হামলার শিকার হয়ে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে একই বছরের ১১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১০৯ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে, আসামির পূর্ববর্তী আটক ও আইনি প্রক্রিয়ার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাতে গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আটক করে। পরবর্তী দিনে যাত্রাবাড়ী থানার ইমন হোসেন গাজী হত্যা মামলায় আদালত তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কারাগারে অবস্থানকালে গত ১৮ আগস্ট পুলিশ গুলশান থানার উক্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায়। সে সময় আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এই ধার্য তারিখেই সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গুলশান থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন। পাশাপাশি আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশও জারি করা হয়।
এদিন গুলশান থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুস সালাম আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করেন যে, ভুক্তভোগী জব্বার আলী হাওলাদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলির নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযুক্তদের আর্থিক সহায়তা করার বিষয়ে আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অত্যাবশ্যক বলে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর যুক্তি তুলে ধরেন।




