গিনির রাজধানী কোনাক্রির দার-এস-সালাম এলাকায় ভোররাত আনুমানিক দুইটার দিকে ভারী বৃষ্টির পর একটি বিশাল আবর্জনার স্তূপ হঠাৎ ধসে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর এই বর্জ্যস্থলে জমে থাকা ময়লার পাহাড় পাশের বসতবাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকারের বিবৃতিতে বলা হয় যে, সামরিক বাহিনীসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ও সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশেপাশে জড়ো হতে থাকেন। পরবর্তীতে উদ্ধারকারীদের এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার বিশাল স্তুপের মধ্য দিয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষের খোঁজে অনুসন্ধান চালাতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর নেতা ল্যান্সিন সিল্লা এর আগে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, তিনি আশঙ্কা করছেন যে মৃতের সংখ্যা আরও ভারী হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১৮টি মরদেহ মর্গে নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্যোগে এক নারী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান যে, তার পাঁচ সন্তান এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ভয় প্রকাশ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও উদ্ধার তৎপরতা তদারকির জন্য গিনির প্রধানমন্ত্রী মামাদু ওরি বা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেও একই স্থানে ঘটে যাওয়া আরেকটি ভূমিধসে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন। সরকার জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের পর রাতভর সংঘটিত এই ধসের পর বেঁচে যাওয়া মানুষদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




