অস্ট্রেলিয়ার বিস্তৃত ভূখণ্ড পাড়ি দেওয়ার এক অসাধারণ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন এক ব্রিটিশ নাগরিক। কর্নওয়ালের সল্টাশের বাসিন্দা বব ব্রাউন গত জুলাই মাসে তাঁর যাত্রা শুরু করেন এবং সোমবার সিডনিতে পৌঁছে প্রায় ২,৮০০ মাইল (৪,৫০৬ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করেন। পুরো পথ তিনি একটি নন-ইলেকট্রিক কিক স্কুটার ব্যবহার করেছেন।

এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে লেখাতে চান — একটি হলো কিক স্কুটারে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ গতির রেকর্ড, অন্যটি হলো তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে (দৌড়, সাইকেল ও স্কুটার) দেশটি অতিক্রম করা প্রথম ব্যক্তি হওয়ার কৃতিত্ব।

৫৭ বছর বয়সী ব্রাউন জানান, সারা জীবন দুঃসাহসিক অভিযানে ভরা থাকার পর তিনি অনুভব করেন, বয়স হওয়ার আগেই আরেকটি বড় রোমাঞ্চকর অভিযানের সময় এসেছে। তিনি বলেন, “আমার সারা জীবনই কেটেছে রোমাঞ্চকর অভিযানে, তাই ৫৭ বছর বয়সে আমি ভেবলাম, খুব বেশি বুড়ো হওয়ার আগেই আরেকটি দুর্দান্ত অভিযানের সন্ধান করা উচিত।”

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ব্রাউনের আগেও পরিচয় আছে। ২০০১ সালে তিনি ৬০ দিনে ৩,০০০ মাইল (৪,৮২৮ কিলোমিটার) দৌড়ে দেশটি পাড়ি দেওয়া প্রথম ব্রিটিশ হন। এরপর ২০০৩ সালে তিনি একই পথ সাইকেলে চালিয়ে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দৌড় ও সাইকেল — দুইভাবেই অস্ট্রেলিয়া অতিক্রমের বিরল কীর্তি গড়েন।

এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি তিনটি দাতব্য সংস্থার জন্য ৫,০০০ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করার আশা করছেন — ম্যাকমিলান ক্যান্সার সাপোর্ট, সেন্ট লুকস হসপিস এবং চিলড্রেনস হসপিস সাউথ ওয়েস্ট। তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি লক্ষ্য ছিল তরুণদের স্ক্রিন ও ডিভাইস থেকে দূরে সরিয়ে দুঃসাহসিক অভিযানে উৎসাহিত করা। ব্রাউন বলেন, “আমি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছিলাম যাতে তারা স্ক্রিন ও ডিভাইসের পেছনে না থেকে বেরিয়ে এসে অভিযানের সন্ধান করে।”

যাত্রাপথে তিনি একাধিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। পঞ্চম দিনে একটি পাসিং গাড়ির ধাক্কায় তাঁর স্কুটারের সাইড মিররটি ভেঙে যায় এবং তিনি রাস্তার পাশে স্কিড করে পড়ে যান। সৌভাগ্যবশতঃ তিনি তেমন গুরুতর আহত হননি। তবে শেষ দিনে, মাত্র ২০ কিলোমিটার বাকি থাকতে, একটি খাড়া ঢালে নামার সময় হ্যান্ডেলবার ভেঙে পড়ে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

তা সত্ত্বেও, ব্রাউন মাত্র ৩১ দিন, ৪ ঘণ্টা ও ১০ মিনিটে তাঁর অভিযান সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের কাছে সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন, তবে তাঁর কৃতিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।