কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হবে, যার নামকরণ করা হবে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মূলত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুমারখালীর ১ নম্বর কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট–বড় বাজার সংযোগ সড়কে এই সেতুটি নির্মাণ করতে হবে এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করতে হবে।

নিজের সন্তানের নামে সেতুর নামকরণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বরকত উল্লাহ বলেন, তিনি অত্যন্ত খুশি। তিনি জানান, এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতুটির নাম শহীদ আবরার ফাহাদ রাখা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় এবং লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তিনি এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

আবেদনের তথ্যানুসারে, কয়া, শিলাইদহ, চাপড়া, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশের প্রায় দুই লাখ মানুষ এই নদী পারাপরের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার প্রয়োজনে নৌকায় করে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই সেতুটি নির্মিত হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়বে। এছাড়া লালন শাহের আখড়া এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ির মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর হাতে পিটিয়ে নিহত হয়েছিলেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

সেতু নির্মাণের এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ প্রথম এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ এলজিইডি-র প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৮০০ মিটার। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিবেশবিষয়ক জরিপ দল এবং বুয়েটের প্রকৌশলীদের একটি দল সম্ভাব্য স্থানটি পরিদর্শন করেছেন, যা স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।