দেশের অপরাধ তদন্ত প্রক্রিয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার তদারকির দায়িত্বে থাকা ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের চরম জনবল সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। অনুমোদিত মোট ৬৪টি পদের একটিও বর্তমানে পূর্ণ নেই। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত নথিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। শূন্য থাকা এই পদগুলোর মধ্যে ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট এবং ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদ অন্তর্ভুক্ত।
অধিদপ্তরের বর্তমান পরিচালনা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মহাপরিচালকসহ হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর যুগ্মসচিব নাজিমুল ইসলাম মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়। এছাড়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পরিচালক মো. আব্দুল বারী, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন তালুকদার এবং সহকারী পরিচালক মোছা. শিমুল বিল্লাহ সুলতানার নাম উল্লেখ থাকলেও সহকারী পরিচালকের পদের পাশে ‘সংযুক্ত’ লেখা রয়েছে। জনবলের অভাব ছাড়াও নিজস্ব স্থাপনা ও যানবাহনের স্বল্পতাকে কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং জিনগত পরিচয় শনাক্তকরণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় প্রথম ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন করা হয়। ডিএনএ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী জাতীয় ডিএনএ ডেটবেইজ এবং ল্যাবরেটরির সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব এই অধিদপ্তরের। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অবস্থিত জাতীয় ল্যাবরেটরির পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে, যেখানে নমুনা সংগ্রহ ও প্রাথমিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১১ হাজার ৫০১টি মামলার ৩৭ হাজার ৫৯২টি নমুনা নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ৩৩৩টি মামলার প্রতিবেদন প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এক সদস্য অপরাধী শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষার অপরিসীম গুরুত্ব উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন অবহেলা করা হলো। সেই সঙ্গে ঢাকার বাইরের ল্যাবরেটরিগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিটি শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে।
মন্ত্রণাল্যের অন্যান্য দপ্তরের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নথিতে দেখা গেছে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ৩ হাজার ৫৯৭টি পদের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৫টি শূন্য, যার মধ্যে ৭৩১টি পদের জন্য গত ১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থার ১৯৬টি এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বৈঠকে প্রান্তিক নারীর ক্ষমতায়ন, গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।




