শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, তার পূর্ণতা পেতে হলে একটি কার্যকর সংসদ গঠন করা অপরিহার্য বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এই কথা বলেন। শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেবল আন্দোলন কিংবা ত্যাগের ইতিহাস চর্চা করে বর্তমান সময়ে চলবে না। বরং আধুনিক রাষ্ট্র গঠন, জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন রাজনৈতিক কর্মীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রভাবমুক্ত করে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে এই দফার বিকল্প নেই। তিনি আরও জানান, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সব গণতন্ত্রকামী শক্তির একতাবদ্ধ হয়ে সংসদীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কর্মীদের কাজ শুধু সংগ্রাম বা আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং জনগণের মৌলিক চাহিদার প্রতিফলন ঘটানোই প্রকৃত দায়িত্ব।

শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের পাশাপাশি আবু সাঈদ ও মুগ্ধর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁদের রক্তের অঙ্গীকার পূর্ণ করতে কার্যকর সংসদ গঠন এবং অর্থনৈতিক সচলতা আনা এখন রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমানুল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন শিরীন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান (সংসদ সদস্য), নাজিমুদ্দিন আলম, খন্দকার লুৎফর রহমান এবং হাবিবুর রহমান হাবিব। পুরো সভার সঞ্চালনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।