সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে এই আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, অনেক মানুষই বিশ্বাস করেন যে এই প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে এই অনাস্থা ও সংশয় অনেক বেশি প্রকট।
এই জরিপে ৩৭টি দেশের ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৫ হাজার ৫১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর আলাদাভাবে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, পুরনো তথ্য থাকা ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশেই সামাজিক মাধ্যমকে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করার প্রবণতা বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতাদের ৬৪ শতাংশই মনে করেন যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গণতন্ত্রের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে ঘানা, কেনিয়া বা নাইজেরিয়ার মতো স্বল্প মাথাপিছু জিডিপি-র দেশগুলোতে এই আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।
ব্যবহারকারীদের ক্ষতির অভিযোগে মেটা, টিকটক এবং স্ন্যাপের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে হাজার হাজার আইনি লড়াইয়ের সম্মুখীন। অনেক ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিয়ে এই মামলাগুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে তারা। একইসাথে বিভিন্ন দেশের সরকার নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ খুঁজছে।
এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরকার নতুন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর এবার তারা ব্যবহারকারীদের 'অ্যালগরিদমিকালি রেকমেন্ডেশন ফিডস' থেকে সরে আসার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। জরিপে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ সীমিত করার সরকারি এই উদ্যোগের সঙ্গে ৮২ শতাংশ অস্ট্রেলীয় প্রাপ্তবয়স্ক একমত।
জরিপের উত্তরদাতাদের একটি অংশ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের এবং তথ্য পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে এই মাধ্যমগুলোকে 'নেতিবাচক' হিসেবে দেখার মানুষের সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের মতো ধনী দেশগুলোতে এই ধারণাটি সবচেয়ে বেশি প্রবল।




