যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবর্তিত বাধ্যতামূলক আটক নীতিটি পর্যালোচনা করতে রাজি হয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমানে সরকার যেভাবে ব্যাপক আকারে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূল বিতর্কটি হলো, যেসব অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের বহিষ্কার প্রক্রিয়ার সময় তারা জামিন শুনানির সুযোগ পাবেন কি না, নাকি শুনানির সুযোগ ছাড়াই তাঁদের আটকে রাখা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন এজেন্ডার একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে এই নীতিটি বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্রাজিলের নাগরিক রিকার্ডো অ্যাপারেসিডো বারবোসা দা কুনহা। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি দুই দশক আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং ২০১৬ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তারের পর একজন অভিবাসন বিচারক তাঁর আটকাদেশকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের মতে, রিকার্ডো কখনোই কোনো অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হননি, তাই তিনি জামিন শুনানির আবেদন করেছিলেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার শুনানি শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইনি ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে নিম্ন আদালতগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ আপিল আদালত মনে করে, জামিন শুনানি ছাড়াই অভিবাসীদের আটকে রাখা ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। তবে পঞ্চম এবং অষ্টম সার্কিটের আদালতের রায় ছিল ভিন্ন; সেখানে বলা হয়েছে, যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন এবং অবস্থান করছেন, তাদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলাকালীন অবশ্যই আটকে রাখতে হবে। এই পরস্পরবিরোধী রায়ের ফলে দেশজুড়ে অভিবাসন আইনের প্রয়োগে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। রিপাবলিকান প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, ভিন্ন ভিন্ন আদালতের ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে আইন প্রয়োগে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে, যা প্রশাসনের কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)-এর মাধ্যমে এই আইনি লড়াই লড়ছেন অভিবাসীরা। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করছে যাতে সীমান্ত বহির্ভূত যেকোনো স্থানে আটক অভিবাসীরা—তা তিনি যত দিনই দেশটিতে বসবাস করুন না কেন—জামিন শুনানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। ACLU-এর আইনজীবীদের মতে, সরকারের এই নতুন ব্যাখ্যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনের অধীনে এই বাধ্যতামূলক আটক নীতি সম্পূর্ণ বৈধ। তবে পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল যে, অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অভিবাসীরা যদি সীমান্তের বাইরে থেকে আটক হন, তবে তাঁরা জামিন শুনানির আবেদন করতে পারতেন।




