বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রসারের জন্য প্রথমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা এবং গণসার্বভৌমত্বের ধারণাটি স্পষ্টভাবে মেনে নেওয়া অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে এই মত ব্যক্ত করেন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশিত প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত–ই–ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

অধ্যাপক রীয়াজ মনে করেন, অতীতের ভুলগুলো সংশোধন এবং গণসার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি প্রদান করলেই এই ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা একটি কার্যকর পরিণতির দিকে এগোবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ও সংঘাতপূর্ণ। এই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে এবং দল ও দেশের স্বার্থে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতকে সংস্কারের পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি বারবার সামনে এনেছিলেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে হলে জামায়াতের নেতাদের জন্য এই বইটি একটি দিকনির্দেশনা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে রীয়াজ মনে করেন, এই বইটির গুরুত্ব কেবল ১৯৭১ সালের ঘটনার পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বইটির পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে লেখক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে রাষ্ট্রের গঠন, নাগরিকের সার্বভৌমত্ব এবং জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব, বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা এবং নেতৃত্বের ঘাটতি নিয়ে লেখকের গভীর পর্যবেক্ষণ বইটিতে উঠে এসেছে বলে জানান অধ্যাপক রীয়াজ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোভিচ এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। এছাড়া লেখকের দুই পুত্রসহ নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীরা উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।