বগুড়ার নতুন জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামানের পদায়নের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতি। শুক্রবার বেলা ১১:৩০ মিনিটে জেলা জজ আদালতের গওহর আলী ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। আইনজীবী সমিতির নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আদালত বর্জনসহ আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ মো. রেজাউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয় যে, মো. মনিরুজ্জামান অতীতে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সরকারের একজন 'আজ্ঞাবহ বিচারক' হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এই কারণে তাঁর পদায়নের বিষয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে সেই আপত্তি উপেক্ষা করেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে পুনরায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামানকে বগুড়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। অন্যদিকে, মো. মনিরুজ্জামান সম্প্রতি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আইনজীবী সমিতির অভিযোগ, পাবনার একজন প্রভাবশালী বিএনপি সংসদ সদস্যের আত্মীয় হওয়ার কারণে তাঁর এই পদায়নের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো দাপ্তরিক নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মো. মনিরুজ্জামান তাঁর মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বার সমিতির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবিলম্বে পদায়নের প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় তারা জরুরি সভা ডেকে আদালত বর্জনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।




