গাজীপুরের পূবাইল থানার হায়দ্রাবাদ এলাকায় রেললাইনের পাশে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক স্ত্রীকে দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এই ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে।

নিহত আসমা আক্তার (১৮) নওগাঁর মান্দা থানার মৌনম এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। তিনি গাজীপুর মহানগরের খাইলকৈর এলাকায় বাবা-মায়ের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। অন্যদিকে, আটক রফিকুল ইসলাম নওগাঁর মান্দা থানার ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে, যিনি সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিহতের বাবা আবুল হোসেন জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রবাসে থাকা রফিকুলের সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়েছিল। তার দাবি, আসমার নানা জোর করে এই বিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি রফিকুল দেশে ফেরার পর তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয় এবং প্রায় ২০ দিন আগে আসমা রফিকুলকে তালাক দেন। তিন দিন আগে রফিকুল লোকবল নিয়ে আসমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিতে গেলেও আসমা রাজি হননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে রফিকুল মোবাইলে আসমাকে হায়দ্রাবাদ রেললাইন এলাকায় দেখা করতে বলেন। আসমা সেখানে পৌঁছানোর পরপরই রফিকুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করেন। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আসমাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় রফিকুলকে আটক করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি রেললাইনের সীমানার ভেতরে ঘটেছে, তাই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে। টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নূর আলম নিশ্চিত করেছেন যে, রফিকুল ইসলাম এখন তাদের হেফাজতে রয়েছেন এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবার করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।