দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে খুব শীঘ্রই তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘সুরক্ষা’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রতিনিধিনির্ভর এই কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশে অনেক এনজিও প্রায় একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে, যার ফলে কাজের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারও পুরোপুরি জানতে পারে না কোন সংস্থা কোথায় কী কাজ করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীরা যদি একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কবার্তার সঠিক প্রসারের কারণে বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। তিনি বলেন, যারা পাহাড়ের নিজস্ব উপাদান ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ঘরবাড়ি তৈরি করেন, তাদের ভূমিধসে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। বিপরীতে, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করায় মানুষ বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম কাঠামোর চেয়ে প্রকৃতিভিত্তিক টেকসই সমাধান গ্রহণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সেমিনারে জানানো হয়, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ‘সুরক্ষা–স্কেলিং আপ মাল্টি-হ্যাজার্ড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের একটি জরিপ অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ মানুষ মাইকিং এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পান, যার ফলে ৮১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হন। তবে উত্তরদাতাদের ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন যে, দুর্যোগের সময়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানে জানান, বর্তমানে অধিদপ্তরের দেওয়া পাঁচ দিনের পূর্বাভাস ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে, যা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বড় সহায়ক। এছাড়া অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং আবহাওয়াবিদ কামরুল হাসানসহ সেভ দ্য চিলড্রেনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বক্তব্য প্রদান করেন।