আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও সাবেক-বর্তমান তিন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। আদালতে গ্রেপ্তার দেখানো ব্যক্তিরা হলেন—কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম এবং সাবেক কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান।

মাহবুব আলম র্যাবের সাবেক পরিচালক, মিফতাহ উদ্দিন র্যাবের সাবেক কমান্ডার এবং আনোয়ার লতিফ র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খান মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। মিফতাহ উদ্দিন সেনা হেফাজতে রয়েছেন, আর বদি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। এই মামলায় মোট আসামি ১১ জন। অপর সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়েছে, এই সাত আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাই তাঁদের আত্মসমর্পণের জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে র্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।