২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। আবেদনের তুলনায় আসন সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এবার বিপুল পরিমাণ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আসন সংখ্যা বেশি থাকলেও, উচ্চফলক বা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সব শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবেন না। কারণ, নামী এবং মানসম্মত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সংখ্যা সীমিত, যার ফলে সেখানে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকবে। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে রোববার শেষ হয়েছে।

ভর্তির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কোনো আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল, পছন্দেরক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করা হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে এই মনোনয়নের ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে।

অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি প্রদান করে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ঢাকার নটর ডেম কলেজের মতো হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরবর্তীতে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে আরও চার হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।