কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জোয়ারে নিজেদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেররা। এরই ধারাবাহিকতায় এশিয়ার সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন টিকটক ও ডুইন-এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১০৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে তিনি ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম বন্ধের মতো বিভিন্ন আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে, তা সত্ত্বেও ঝাং-এর সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার মোট নিট সম্পদের পরিমাণ ১০৫.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাইটড্যান্সের প্রায় ২১ শতাংশ শেয়ারের মালিক ঝাং ইমিং। ব্ল্যাকরক এবং ফিডেলিটির নতুন মূল্যায়নের পর কেবল এই মাসেই তার সম্পদের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যখন ব্লুমবার্গ প্রথম তার সম্পদের হিসাব রাখা শুরু করে, তখন তার মোট সম্পদ ছিল মাত্র ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে তার সম্পদ প্রায় আট গুণ বেড়েছে। এই অভাবনীয় উন্নতির মূলে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকটকের উত্তেজনার সময়েই ঝাং তার প্রতিষ্ঠানের এআই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করেন। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোর বিশাল ডেটাবেস ব্যবহার করে তারা তাদের এআই মডেলগুলোকে আরও উন্নত করেছে। বর্তমানে এক বিলিয়নেরও বেশি দৈনিক সক্রিয় টিকটক ব্যবহারকারী এবং কোটি কোটি ডুইন ব্যবহারকারীর পাশাপাশি এই উন্নত প্রযুক্তিগত পণ্যগুলো তাদের ব্যবসার প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া-র প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জাই সু মনে করেন, ঝাং ইমিং অত্যন্ত বিচক্ষণভাবে এআই বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন, যা তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

তবে কেবল ঝাং ইমিং নন, এআই বিপ্লব বিশ্বের অন্যান্য ধনকুবেরদের সম্পদকেও দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাইকেল ডেল গত এক বছরে এআই বুমের ফলে তার সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ করে ২৬২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছেন, যার ফলে তিনি এখন বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এআই-অপ্টিমাইজড সার্ভার থেকে তাদের আয় ৭ ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১৬.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় তিনি মার্ক জাকারবার্গকেও ছাড়িয়ে গেছেন। একইভাবে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ তার নতুন এআই মডেল 'জেমিনি ৩' উন্মোচনের পর সম্পদ বৃদ্ধি করে বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তার বর্তমান মোট সম্পদ প্রায় ২৯৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিষ্ঠিত ধনকুবেরদের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি নতুন প্রজন্মের তরুণদেরও বিলিয়নেয়ার ক্লাবে নিয়ে আসছে। ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছর ৩০ বছরের কম বয়সী স্বনির্ভর ধনকুবেরদের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ২৫ বছর বয়সী সুলেহ আসিফ, যিনি ২৯.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এআই এডিটিং টুল 'কারসার'-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানিসফিয়ার গড়ে তুলেছেন। এছাড়াও জেন-জি প্রজন্মের আদার্শ হিরেমাথ এবং সূর্য মিধা তাদের এআই-চালিত রিক্রুটিং স্টার্টআপ 'মারকোর'-এর মাধ্যমে বিলিয়নেয়ার হয়ে উঠেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ১১ জন তরুণ ধনকুবেরের মধ্যে আটজনেই এআই উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।