কর্পোরেট যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'স্মার্ট ব্রেভিটি' বা সংক্ষিপ্ত বার্তার ধারণা জনপ্রিয় করার তিন বছর পর, অ্যাক্সিওস-এর প্রতিষ্ঠাতা জিম ভ্যানডেইহেই, মাইক অ্যালেন এবং রয় শোয়ার্টজ নতুন করে আলোকপাত করেছেন বর্তমান সময়ের এক বড় সমস্যায়—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এই মাসেই প্রকাশিত হতে যাওয়া তাদের নতুন বই 'সিম্প্লিফাই: ডু ৫০% মোর উইথ ৫০% লেস'-এ তারা আলোচনা করেছেন কীভাবে এআই মানুষের কাজের চাপ কমানোর বদলে উল্টো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতাদের মতে, এআই-কে দক্ষতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে বিক্রি করা হলেও বাস্তবে এটি অফিসগুলোতে ইমেলের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রেজেন্টেশনের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। ভ্যানডেইহেই মনে করেন, যারা আগে কখনও প্রেজেন্টেশন তৈরি করেননি, তারাও এখন এআই ব্যবহার করে প্রচুর ফাইল তৈরি করছেন, যা পর্যালোচনার জন্য অন্যদের আরও বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। মাইক অ্যালেন একে 'কাজের মতো কর্মকাণ্ড' (work-like activity) বলে অভিহিত করেছেন, যা আপাতদৃষ্টিতে উৎপাদনশীল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো অগ্রগতি আনে না। তিনি মনে করেন, মানুষ সহজাতভাবেই বিষয়গুলোকে জটিল করতে পছন্দ করে, ফলে অডিট বা কঠোর পর্যালোচনার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ না দিলে প্রকৃত মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিয়মিত 'অডিট' বা কাজের হিসাব মেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ভ্যানডেইহেই আগে প্রতি তিন মাস অন্তর এই কাজ করতেন, তবে এখন তিনি প্রতি মাসে বা এমনকি প্রতি সপ্তাহে এটি করার কথা ভাবছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—কোন কাজগুলো সত্যিই প্রয়োজনীয়, কোনগুলো বন্ধ করা যায় এবং কোনগুলো অটোমেটেড করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করা।

ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে মাইক অ্যালেন 'আই এম বুকড' (আমি ব্যস্ত) শব্দ দুটি ব্যবহারের কথা বলেছেন। তার মতে, কোনো অপ্রয়োজনীয় আমন্ত্রণ বা অনুরোধে বিনয়ের সাথে কিন্তু দৃঢ়ভাবে এই কথাটি বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, যদি কোনো আমন্ত্রণে মন থেকে সাড়া না পাওয়া যায়, তবে সেটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করাই শ্রেয়। রয় শোয়ার্টজ এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করেছেন 'অপরাধবোধ' দূর করার বিষয়টিকে। তিনি বলেন, লিখিত লক্ষ্য নির্ধারণ করলে অপ্রয়োজনীয় সুযোগ প্রত্যাখ্যান করার মানসিক অনুমতি পাওয়া যায়, যা দলগত কাজেও কার্যকর হতে পারে।

নব্বইয়ের দশকের কথা স্মরণ করে ভ্যানডেইহেই এবং অ্যালেন জানান, সেই সময়টা বর্তমানের চেয়ে অনেক ধীরগতির ছিল। তখন ইন্টারনেট, টেক্সট মেসেজ বা ইমেলের আধিক্য ছিল না, ফলে মানসিক চাপ এবং তথ্যের বোঝা অনেক কম ছিল। বর্তমান যুগে মানুষ প্রতিনিয়ত অসংখ্য নোটিফিকেশন ও তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

এআই-এর প্রভাব নিয়ে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ভ্যানডেইহেই মনে করেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত যাতে তাদের মস্তিষ্ক নিজস্ব জ্ঞান ও প্যাটার্ন চেনার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে পেশাদারদের ক্ষেত্রে, যারা ক্যারিয়ারের নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তারা এআই-কে কাজে লাগিয়ে আরও গভীর চিন্তা করার সময় বের করতে পারেন। নতুন চাকরিতে প্রবেশকারীদের জন্য তার পরামর্শ হলো, সামগ্রিক এআই বিশেষজ্ঞ হওয়ার চেয়ে নিজের নির্দিষ্ট কাজের জন্য এই প্রযুক্তির সবচেয়ে কার্যকর ব্যবহার পদ্ধতিগুলো দ্রুত শিখে নেওয়া।