বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। এই বছর প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে যে, এআই সিস্টেম প্রশিক্ষণের চেয়ে তা পরিচালনা বা চালানোর পেছনে বিশ্বজুড়ে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আইবিএম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, এআই প্রশিক্ষণ ছিল মুষ্টিমেয় কিছু কোম্পানির বড় বিনিয়োগ, কিন্তু এর পরিচালনা এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের কার্যক্ষম ব্যয়ের (Operating Expense) অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এখন প্রশ্নটি আর এটি নয় যে এআই কাজ করে কি না, বরং প্রশ্নটি হলো প্রতিষ্ঠানগুলো বড় পরিসরে এর ব্যয় বহন করতে পারবে কি না।

এই ব্যয় সংকটের মুখে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে 'রেশনিং' বা ব্যবহার সীমিত করার পথ বেছে নিচ্ছে। তারা টোকেনের সংখ্যা সীমিত করছে অথবা কেবল নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত ব্যক্তির জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মডেলগুলো সংরক্ষিত রাখছে। আইবিএম সিইও-র মতে, এটি একটি ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি মনে করেন, অনেকগুলো ছোট ছোট পরীক্ষার বদলে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রজেক্টে বিনিয়োগ করা উচিত, কিন্তু একবার কোনো প্রজেক্ট বেছে নেওয়ার পর তার অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া বা রেশনিং করা মানেই হলো প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া।

এন্টারপ্রাইজ এআই-এর অর্থনীতিতে জয়ী হতে তিনি তিনটি মূল প্রশ্নের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, খরচের মূল কারণ কী? তার মতে, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ত্রুটি এখানে প্রধান। উদাহরণস্বরূপ, একটি সফটওয়্যার লেখার সময় এআই এজেন্টরা প্রতি শব্দের বিপরীতে প্রায় ৬০০ শব্দ পড়ে, যার অধিকাংশেরই পুনরাবৃত্তি ঘটে। এই পুনরাবৃত্তিমূলক পাঠের জন্য কোম্পানিগুলোকে বারবার অর্থ ব্যয় করতে হয়। আইবিএম, রেড হ্যাট এবং গুগলের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি একটি ওপেন-সোর্স প্রজেক্টের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সেখানে 'ক্যাশিং' প্রযুক্তির সাহায্যে এআই-এর পড়া তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, ফলে একই হার্ডওয়্যারে সাত গুণ বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, দাম নির্ধারণ করে কে? বর্তমানে অনেক সরবরাহকারী ডেটা পুনঃপাঠের ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও, সেই নিয়ন্ত্রণ থাকে সরবরাহকারীর হাতে। আইবিএম-এর মতে, নিজস্ব ইনফ্রাস্ট্রাকচারে ওপেন-ওয়েট মডেল ব্যবহার করলে খরচ অনেক কমে আসে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট কাজে ওপেন মডেল মাত্র ২৬ ডলারে কাজ শেষ করেছে, যেখানে একটি নামী প্রোপাইটরি মডেল একই কাজের জন্য ২৯৯ ডলার খরচ করেছে। তবে সব কাজের জন্য ওপেন মডেল নয়, বরং কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী মডেল নির্বাচন করা উচিত।

তৃতীয়ত, প্রকৃতপক্ষে কত খরচ হচ্ছে? এআই একটি সম্ভাব্য বা প্রবাবিলিস্টিক মেশিন হওয়ায় একই অনুরোধের জন্য একেকবার একেক রকম খরচ হতে পারে, যা বাজেট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তোলে। তাই মডেলের উপরে একটি কার্যকর অপারেটিং লেয়ার থাকা জরুরি, যা খরচকে পূর্বাভাসযোগ্য করে তোলে এবং সর্বোচ্চ 'টোকেন ইল্ড' বা প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করে।

সবশেষে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন ডেটার সার্বভৌমত্বের ওপর। প্রতিষ্ঠানের চার-পঞ্চমাংশ ডেটা অসংগঠিত এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা বাইরের কোনো ভেন্ডরের কাছে পাঠানো নিরাপদ নয়। তাই বুদ্ধিমত্তাকে ডেটার কাছে নিয়ে আসতে হবে। যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এআই অপারেটিং লেয়ার তৈরি করে দেয়, তবে সেটি নিয়ন্ত্রণের বদলে কেবল একটি খরচের মিটারে পরিণত হয়। তাই বড় পরিসরে এআই পরিচালনা করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই অপারেটিং লেয়ারের মালিকানা নিজের হাতে রাখা।