কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত প্রসারের ফলে আগামী বছরগুলোতে সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এই প্রবৃদ্ধি সমাজের সব স্তরে সমানভাবে পৌঁছাবে না, বরং উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তের অর্থনৈতিক ব্যবধান বা 'কে-শেপড ইকোনমি' আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধনকুবেরদের ওপর বিশেষ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

সম্প্রতি 'দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস জানান, এআই-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর প্রতিষ্ঠাতারা এবং এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী পরিবারগুলো বিপুল সম্পদের মালিক হচ্ছেন। এই বিশাল সম্পদ বৈষম্য দূর করার দায়িত্ব মূলত সরকারের। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরোপকারী বা দানশীল উদ্যোগগুলো সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন, তাই সেগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা জাল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং নীতি-নির্ধারকদের উচিত প্রগতিশীল সম্পদ কর ব্যবস্থা চালু করা, যার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় হবে এবং কর দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ ধনকুবেররা তাদের ইচ্ছামতো দান করতে পারবেন।

বিল গেটস তার নিজস্ব সম্পদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার গেটস ফাউন্ডেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগামী ২০ বছরের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। তবে তার মতে, ব্যক্তিগত দান যত বড়ই হোক না কেন, এআই-এর কারণে তৈরি হওয়া বৈষম্য দূর করতে তা যথেষ্ট হবে না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী ব্যক্তি দেশের শেয়ার বাজারের ৫০ শতাংশেরও বেশি অংশের মালিক। ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের আর্থিক মুনাফা মূলত এই ক্ষুদ্র অংশের মানুষের হাতেই জমা হচ্ছে। এই অসমতা দূর করতে ধনকুবেরদের কর দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।

তবে বিল গেটসের এই মতামতের সাথে তার প্রযুক্তি খাতের সহকর্মীদের সবাই একমত নন। গুগল সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন এবং সাবেক সিইও এরিক শ্মিড্ট ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত ধনকুবের করের কারণে কর-বান্ধব অঙ্গরাজ্যগুলোতে চলে গেছেন। অন্যদিকে, এনভিডিয়া প্রতিষ্ঠাতা জেনসেন হুয়াং কর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও রোবটের ওপর কর আরোপের বিষয়ে গেটসের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

বিল গেটস তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে একজন নিয়োগকর্তা মানুষ নিয়োগ করলে পে-রোল ট্যাক্স দিতে হয়, কিন্তু রোবট কিনলে তাকে ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে দেখিয়ে কর ছাড় পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে সরিয়ে যন্ত্র বসাতে উৎসাহিত করে। তাই তিনি এআই টোকেন এবং রোবটের ওপর কর বসানোর পরামর্শ দেন। তবে জেনসেন হুয়াং এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, সমাজে অবদান রাখার জন্য কর দেওয়া ভালো, তবে রোবট করের পরিবর্তে অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন।