শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নে অবস্থিত আলতাফ হোসেন খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটের মুখে। নদীভাঙনের ভয়াবহতায় বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত চলে এসেছে পদ্মা নদী। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই বছর আগেও বিদ্যালয় থেকে নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার, যা ক্রমাগত ভাঙনের ফলে এখন শূন্যে নেমে এসেছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো প্রতিষ্ঠানটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের টিনের সীমানাবেড়া ইতিমধ্যে খুলে ফেলা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান জানান, প্রতিদিন স্কুল শেষে তিনি এই দুশ্চিন্তায় থাকেন যে পরের দিন সকালে স্কুলটি আর খুঁজে পাবেন কি না। ভাঙনের ভয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে এখানে ২১৪ জন শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত হয় মাত্র ৬০ থেকে ৭০ জন। নদীভাঙনের কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমেছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা ও জোনায়েদ জানান, এখন আর বিদ্যালয়ে আসতে বা মাঠে খেলাধুলা করতে তারা ভয় পায়। স্কুলটি হারিয়ে গেলে তাদের পড়াশোনা কোথায় হবে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

২০১৭ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খানের দান করা ৩৩ শতাংশ জমিতে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে চারটি শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের জন্য একটি কক্ষ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান অভিযোগ করেছেন যে, এলাকাটি রক্ষায় তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অনুরোধ জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার মতে, চলতি বছরেই তাদের গ্রামের অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে জমি ও বসতভিটা হারিয়েছে এবং এখন বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে।

জাজিরার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানিয়েছেন, ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এই বিদ্যালয়টি অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো নতুন কোনো জায়গা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে গেলেও যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত আলম খান কান্দি গ্রামটির মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো নৌপথ।