ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেসের চরম বিলম্ব ও বগিগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১১টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ছেড়েছে রাত ১২টায়। প্রায় ৪৫ মিনিটের এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে স্টেশনে চরম অস্বস্তির মধ্য দিয়ে অপেক্ষা করতে হয় ফিরোজ খানসহ প্রায় ৭০০ যাত্রীকে। শুধু যাত্রার শুরুতেই নয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও দেখা দেয় বড় ধরনের দেরি। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ট্রেনটি পৌঁছায় সকাল ৭টায়, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বেশি।
যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ার বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগাম খুদে বার্তা (SMS) পাঠানো হয়নি এবং স্টেশনেও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রেনটি কখন ছাড়বে তা নিয়ে যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ফিরোজ খান জানান, অফিসের কাজ শেষ করে তিনি তড়িঘড়ি করে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে পৌঁছালেও ট্রেনের বিলম্বের কারণে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।
বিলম্বের পাশাপাশি ট্রেনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন এক যাত্রী। তিনি জানান, তূর্ণার ‘ঙ’ বগির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কেবিনে ভ্রমণকালে তিনি চরম অস্বস্তি অনুভব করেন। বগিগুলো ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, চারদিকে ময়লা ছড়িয়ে ছিল এবং আসনের চাদরগুলো পরিষ্কার করা হয়নি। এমনকি কেবিনের টেবিলটিও ছিল ভাঙা এবং মশার উপদ্রবে বসা দুঃসহ হয়ে উঠেছিল।
এই পরিস্থিতির বিষয়ে রেলওয়ের ঢাকার বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ জানান, তূর্ণা এক্সপ্রেসের বগি ও ইঞ্জিন মূলত চট্টগ্রাম থেকে আসা মহানগর গোধূলির ফিরতি যাত্রায় ব্যবহৃত হয়। বুধবার মহানগর গোধূলী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট দেরি করে। পাশাপাশি টঙ্গী থেকে ঢাকা পর্যন্ত অন্যান্য ট্রেনের চাপের কারণে তূর্ণা এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন ছাড়তে প্রায় ৪৫ মিনিট বিলম্ব হয়।




