ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠেয় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে পেসার ব্রাইডন কার্সকে সরিয়ে নিয়েছে। ডার্বির একটি নাইটক্লাবের বাইরে সংঘটিত একটি ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র সংস্থা ক্রিকেট রেগুলেটর ইতিমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং ইসিবিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বোর্ডের পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়, তদন্ত চলাকালে এবং পুরো ঘটনার তথ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কার্সকে নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় রাখা হবে না। তাঁর স্থলে হ্যাম্পশায়ারের পেসার সনি বেকারকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার রাতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ডারহামের হয়ে জয় উদযাপন করছিলেন কার্স। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি ওই ম্যাচেই খেলছিলেন। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডার্বির ওই নাইটক্লাবের সামনে থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা কার্সকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে তাঁর সতীর্থ বেন স্টোকস ও ম্যাথিউ পটসকেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ নেই।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হওয়ার পর থেকে কোনো সংস্করণেই ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামেননি কার্স। হাতের চোটের কারণে ২০২৬ সালের শুরুটা তাঁর জন্য ভালো কাটেনি, ফলে আইপিএলেও তিনি খেলতে পারেননি।

মাঠের বাইরের এই বিতর্ক ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত বছরের শেষ ভাগে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতার পর থেকেই মদ্যপানকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওয়েলিংটনের একটি নাইটক্লাবে সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে বাউন্সারের বাকবিতণ্ডা এবং অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে পরাজয়ের সময় খেলোয়াড়দের নেশাগ্রস্ত অবস্থার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পর জানুয়ারিতে খেলোয়াড়দের বাইরে যাওয়ার ওপর কারফিউ জারি করা হয়।

তবে সেই পদক্ষেপেও খুব একটা সুফল মেলেনি। জুনে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে কারফিউ ভঙ্গের দায়ে সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সিরিজ চলাকালীনই স্টোকস হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। মাত্র দুই সপ্তাহ পর লাল বলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব ফিরে পান জো রুট।

রুট অবশ্য খেলোয়াড়দের ওপর কঠোর কারফিউ চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নন। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কারফিউ কার্যকর বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, যদি মাঠের ভেতরে ছেলেদের দায়িত্বশীল হতে চাওয়া হয়, তবে মাঠের বাইরেও তাদের পরিণত বয়স্ক হিসেবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।

লর্ডসে দুই দিনের অনুশীলন শেষে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।