আজ বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চিত্র ছিল মিশ্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, প্রধান বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগের দরই ঊর্ধ্বমুখী, তবে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেখা গেছে পতন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ নানা ভূ-রাজনৈতিক কারণ কয়েক মাস ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার মানকে অস্থির করে রেখেছে, যার প্রভাব পড়েছে আজকের লেনদেনেও।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, বাজারে ডলারের গড় মূল্য এখন ১২২ দশমিক ৯৯ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কম। অন্যদিকে, ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, অস্ট্রেলীয় ডলার এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমেছে, অর্থাৎ এসব মুদ্রার বিনিময় হার বেড়েছে। তবে এই তালিকায় ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর ডলার, যার দর কমেছে। ভারতীয় রুপি এবং জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
খোলাবাজারে অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত হারের চেয়ে সামান্য বেশি দামে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা হচ্ছে। মুদ্রা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহ ও চাহিদার তারতম্যের কারণেই এ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের এই ওঠানামা শুধু রেমিট্যান্স বা আমদানি-রপ্তানির খরচই নয়, পুরো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয়কেও প্রভাবিত করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের স্থিতিশীলতা না মিললে পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হতে পারে, যা ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে পড়বে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের বাজারে ডলারের দরপতনকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন অনেকে, তবে অন্যান্য মুদ্রার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ব্যবসায়িক খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউরো ও পাউন্ডের দাম বাড়ায় ইউরোপীয় বাজারে পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।




