ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। তবে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত নেতারা আরও সর্বোচ্চ ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্বে বহাল থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। এই অতিরিক্ত সময়ে তাঁদের কাজের পরিধি মূলত রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি, ফলে এই বিধান কার্যকর হচ্ছে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন না হলে তারা অতিরিক্ত ৯০ দিন অথবা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে—দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এরপর ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। তবে এই অতিরিক্ত সময়ে বর্তমান নেতাদের ক্ষমতা সীমিত। তাঁরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না, কেবল চলমান অফিসিয়াল কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ প্রসঙ্গে বলেন, এই সময়ে ডাকসু নেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার থাকবে না। শুধু যেসব নথিতে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর হয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন না হলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, শুধু সেসব কাজই তারা করতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রত্ব বজায় থাকলে বর্তমান নির্বাচিত নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে বহাল থাকবেন।

এদিকে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে যান ডাকসুর বর্তমান প্রতিনিধিরা। উপাচার্য চীন সফরে থাকায় তাঁরা সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলফেছানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর নিয়মিত মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, তফসিল না ঘোষণা করলে মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও তিন মাস বাড়ার সুযোগ আছে, কিন্তু তাঁরা সেই মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন। প্রশাসনের কাছে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ফরহাদ আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। বারবার একই ধরনের উত্তর দেওয়া হচ্ছে—‘আমরা চেষ্টা করছি, আমরা জানাব।’ এ অবস্থায় নতুন নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) জানান, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ আন্তরিক। তারা চান ডাকসু কার্যকর থাকুক। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সব হলের প্রভোস্টদের নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ চারজনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রভোস্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন হলের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব নিয়ে আসেন।

একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও প্রশাসন পৃথকভাবে বৈঠক করবে। অধ্যাপক আলফেছানী বলেন, তাঁরা চান অধিকসংখ্যক ও বড় বড় ছাত্রসংগঠন নির্বাচনে অংশ নিক এবং ডাকসুকে শক্তিশালী করুক। যখন সব সংগঠন সম্মিলিতভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবে, তখনই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।