চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এই দাবির পক্ষে টানা চতুর্থ দিনের মতো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলের সূচনা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি জানান।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অরিন্দম দে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির মুখে শিক্ষার্থীদের মতামত ও চলমান আন্দোলনকে উপেক্ষা করে নতুন উপাচার্যের যোগদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তাদের একমাত্র দাবি হলো অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা। অন্যদিকে, পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান অভিযোগ করেন যে, নতুন উপাচার্য অনলাইনে যোগদান করেছেন, যাকে শিক্ষার্থীরা 'অনলাইন উপাচার্য' হিসেবে অভিহিত করে ক্যাম্পাসে তাঁর উপস্থিতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা পুনরায় অধ্যাপক সায়েমকেই উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর, যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই সিদ্ধান্তের পরপরই ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করেন এবং পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক সায়েম মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম তার পদে যোগদান করেন, যা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।