রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান এবং তাঁর গভীর ভাবনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছিল এক বিশেষ সংগীতসন্ধ্যা, যার শিরোনাম ছিল ‘রবীন্দ্রনাথের গান ও এ আমির আবরণ’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা এবং ইমতিয়াজ আহমেদ তাঁদের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যেই মিলনায়তনটি শ্রোতাদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়; আয়োজনের শুরুতে ভিড় এতটাই ছিল যে সেখানে দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যাচ্ছিল না। বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম এবং অনেকে পরিবারসহ এই মুগ্ধকর পরিবেশনা উপভোগ করতে এসেছিলেন।
পুরো আয়োজনটির মূল অনুপ্রেরণা ছিল প্রথিতযশা কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা প্রবন্ধ সংকলন ‘এ আমির আবরণ’। এই বইটিতে শঙ্খ ঘোষ রবীন্দ্রনাথের গানের বাণী এবং ভাবনার পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কবিকে নতুন আঙ্গিকে দেখার চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব ছিল গানের পাশাপাশি এই বইয়ের excerpts বা পাঠ। সংগীতের বিরতির সময় রাশেদ হাসান শঙ্খ ঘোষের লেখা প্রবন্ধ থেকে পাঠ করেন, যা শ্রোতাদের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান ও দর্শনকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘আনন্দধারা আর্টস ইউকে’-র তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশিত ‘ওই আসনতলে’ গানের মাধ্যমে। পুরো সংগীতসন্ধ্যাটি মোট আটটি অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্যায়ের পর লাইসা আহমদ লিসা এককভাবে ‘বাজাও আমারে’ এবং ‘মধুর, তোমার শেষ যে না পাই’ গান দুটি পরিবেশন করেন। দ্বিতীয় অংশে ইমতিয়াজ আহমেদ শ্রোতাদের শোনান ‘মধুর মধুর ধ্বনি বাজে’ ও ‘অধরা মাধুরী ধরেছি’। তৃতীয় পর্বটি শুরু হয় দ্বৈত গানে ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’র মাধ্যমে, যার পর লিসা পরিবেশন করেন ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’ এবং ‘বাজিল কাহার বীণা’।
চতুর্থ পর্বে ইমতিয়াজ আহমেদ ‘বড়ো বেদনার মতো’ ও ‘জীবনে যত পূজা হলো না সারা’ গান দুটি গেয়ে শোনান। এরপরের পর্যায়গুলোতে দুই শিল্পী একক ও যৌথভাবে আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন, যার মধ্যে ছিল— ‘তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে’, ‘তোমায় গান শোনাব’, ‘তুমি কেমন করে গান করো হে’, ‘যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা’, ‘তোমায় নতুন করে পাব ব’লে’, ‘আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায়’, ‘যেতে যেতে একলা পথে’, ‘কার মিলন চাও বিরহী’ এবং ‘আজি ঝড়ের রাতে’। অনুষ্ঠানের শেষ গান হিসেবে পরিবেশিত হয় ‘গানের ভেতর দিয়ে যখন দেখি’। পরিশেষে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে এই মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।



