চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসা নাওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় টোয়িং ট্রাকের চালক শামীম বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে নগরের ফ্রি পোর্ট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরদিন সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হয়।
নিহত তরুণীর বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। নগরের কাঠগড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন নাফিসা; তাঁর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। বাবা মামুন মিয়ার একমাত্র কন্যা ছিলেন তিনি। শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার সকালে। পতেঙ্গা থানার নেভি হাসপাতাল গেটের বিপরীত সড়কে একটি টোয়িং ট্রাক বা রেকার তাঁকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষে নাফিসা সড়কে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত যানটি ছিল একটি রেকার। সাধারণত বিকল বা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন টেনে নেওয়া ও সড়ক থেকে সরানোর কাজে এই ধরনের ট্রাক ব্যবহৃত হয়। ঘটনার পরপরই চালক পলায়ন করেন।
এ ঘটনায় নাফিসার বাবা মামুন মিয়া বাদী হয়ে চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় টোয়িং ট্রাকচালককে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযানে নামে। গ্রেপ্তার হওয়া শামীম বিশ্বাস (৩১) ম্যাক্স গ্রুপ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রেকারচালক। তাঁর বাড়ি মাগুরা জেলায়; নগরের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ এলাকায় ম্যাক্সের সাইট অফিসে তিনি বসবাস করতেন। রবিবার রাতে ফ্রি পোর্ট এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, মামুন মিয়া সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত শামীমকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, নাফিসা নগরের পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
শিক্ষকদের ভাষ্য মতে, নাফিসা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। শনিবার তাঁর আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। একমাত্র মেয়েকে হারানোর বেদনায় বাবা মামুন মিয়া গভীর শোকে বলেছিলেন, তাঁর জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।




