চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ পালন করেছে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিককর্মিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন প্রগতিশীল সমাজের আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি উদাসীন। নজরুলকে অনেকে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ে মনে রাখলেও, সুকান্তের কথা যেন পুরোপুরি ভুলে গেছে এই প্রজন্ম। মাত্র ২১ বছর বয়সে সুকান্তের যে বিপুল সৃষ্টিশীলতা, তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সুভাষ দে সুকান্তকে বাংলা সাহিত্যের 'বিপ্লবের কণ্ঠস্বর' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শোষিত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন সংগ্রামের লড়াইয়ে সুকান্তের লেখা সবসময় আশ্রয় হয়ে থাকবে। সময়ের প্রয়োজনে তাঁর সৃষ্টি গণমানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।
উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল কান্তি নাথের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শীলা দাশ গুপ্তার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভাটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সদস্য শিমুল সেন। এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় উদীচীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর, কবি ইউসুফ মুহাম্মদ এবং কবি অভীক ওসমান।
আলোচনা সভার পর একটি জমকালো সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উদীচী এবং রাগেশ্রীর শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে 'রানার' শিরোনামে একটি নৃত্য পরিবেশন করে সুরাঙ্গন দল। পাশাপাশি 'তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও বোধন' দলীয় আবৃত্তির পাশাপাশি একক আবৃত্তিতে অংশ নেন ফারুক তাহের, অঞ্চল চৌধুরী, সোমা মুৎসুদ্দি এবং বেলায়েত হোসেন। একক গানের পরিবেশনা করেন বর্ণালী দাশ, বিউটি দেব, ভাস্কর রায় ও জয় নেন।




