ব্রাজিল সরকারের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, দেশটির আমাজন রেইনফরেস্ট এবং সাভানা অঞ্চলে বন উজাড়ের হার রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন দেশটিতে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য চূড়ান্ত নির্বাচনী লড়াই আসন্ন এবং রেইনফরেস্টের ভবিষ্যৎ সেখানে একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে আমাজনে বন উজাড়ের হার ৪১.৮% কমেছে, যা ১৯৮৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় পতন। একইভাবে ব্রাজিলের সাভানা অঞ্চল 'সেরাদো'-তে বন উজাড়ের হার ২৩.৮% হ্রাস পেয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক এই সাফল্যকে 'ঐতিহাসিক অর্জন' হিসেবে অভিহিত করেছেন জলবায়ু বিষয়ক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ 'অবজারভেটোরিও দো ক্লাইমা'-র নির্বাহী সচিব মার্সিও অ্যাস্ট্রিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং বন উজাড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রী জোয়াও পাওলো ক্যাপোবিয়ানকো এই পতনকে অত্যন্ত অভাবনীয় বলে বর্ণনা করেছেন।

তিন বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় সম্পূর্ণ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরি ডানপন্থী নেতা জাইর বলসোনা রোর নীতিগুলো বদলে দেন এবং অবৈধ গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করেন। ফলে তাঁর প্রথম বছরেই বন উজাড়ের হার গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লুলা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

এর বিপরীতে, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাইর বলসোনা রোর শাসনামলে আমাজনের বনভূমি ধ্বংসের হার পূর্ববর্তী চার বছরের তুলনায় প্রায় ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আদিবাসীদের সংরক্ষিত জমিতে খনির কাজ উৎসাহিত করেছিলেন এবং বন রক্ষায় বরাদ্দকৃত সম্পদ কমিয়ে দিয়েছিলেন।

আগামী ২৫ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদের চূড়ান্ত লড়াইয়ে লুলা দা সিলভার মুখোমুখি হবেন বলসোনা রোর পুত্র ফ্লাভিও। বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী এই লড়াই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাভিও জয়ী হলে তিনি তাঁর বাবার নীতিগুলোই অনুসরণ করবেন, যদিও তিনি আমাজনের সংগঠিত অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর ৬০ শতাংশই ব্রাজিলের অভ্যন্তরে অবস্থিত। এই বন লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল এবং এটি প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। তবে দশকের পর দশক ধরে কৃষি এবং কাঠ সংগ্রহের জন্য পরিকল্পিতভাবে বন পরিষ্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখানে দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। লুলা সমর্থকরা আশা করছেন, পরিবেশগত এই সাফল্য আগামী ১০ দিন পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেবে।