ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গাফফার (৩৫) অবশেষে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। কাদির মিয়ার এই পুত্র সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে সদর থানায় হাজির হন। পরে বেলা দুইটার দিকে তাঁকে সরাইল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কার্যালয়ে সংঘটিত লুটের ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর এক সহযোগীর নামও প্রকাশ করেছেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, গাফফারের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

এই আত্মসমর্পণের আগে রোববার রাতে ঘটেছিল উত্তেজনাপূর্ণ একটি ঘটনা। সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব বড়ুয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল গতকাল রাত দশটার দিকে খাঁটিহাতা গ্রামে অভিযান চালায়। সেখানে গাফফারকে পাওয়া গেলে তাঁর দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়। কিন্তু তখনই তিনি কনুই দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে আঘাত করেন। এরপর তাঁর স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতকড়া পরানো অবস্থাতেই গাফফারকে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন।

ছিনতাইয়ের পর রাত এগারোটার দিকে সদর ও সরাইল থানার পুলিশ যৌথভাবে গাফফারের বাড়িতে পুনরায় অভিযান চালায়। রাত একটা পর্যন্ত চলা ওই অভিযানে তাঁর পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ আজ ভোরে, গাফফার সদর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।

গাফফারকে গ্রেপ্তারের পেছনের কারণ ছিল গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত একটি লুট। ওই রাতে তিনটা থেকে চারটার মধ্যে উত্তর কুট্টাপাড়া এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করেন। তৃতীয় তলায় গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দরজা ভেঙে তাঁরা ভেতরে ঢুকে হিসাবরক্ষক রব্বী মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুই লাখ টাকা লুট করেন। ওই সময় প্রতিষ্ঠানে আরও দুজন উপস্থিত থাকলেও কেবল রব্বী মিয়াকেই আঘাত করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় তলায় থাকা আরেকটি প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে দেড় লাখ টাকা লুট করা হয়। সবশেষে নিচতলায় সিসিটিভি ক্যামেরার কক্ষের তালা ভেঙে ক্যামেরার যন্ত্রপাতি ও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

লুটের সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তদের একজনের মুখোশ খুলে যায়। তখন তাঁর মুখ দেখতে পান আহত রব্বী মিয়া। পরে পুলিশ ছবি দেখালে তিনি আবদুল গাফফারকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে রব্বী মিয়া অজ্ঞাতপরিচয় দুজনকে আসামি করে সরাইল থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনাক্তকরণের পরই গাফফারকে ধরতে অভিযান শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত ছিনতাই ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সমাপ্তি পায়।