যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারকে ব্লকচেইনের আওতায় আনার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের (NYSE) মূল প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থা OKX-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ৬২টি পাবলিক কোম্পানির টোকেনাইজড শেয়ারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ট্রেডিং সুবিধা চালু করা। সাবেক নিউইয়র্ক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এই যৌথ উদ্যোগের সহ-সভাপতিত্ব করছেন।
তবে গত বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টি কোম্পানিই এই প্ল্যাটফর্মে তাদের শেয়ার লেনদেনের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার বোয়িং এবং বিজনেস সফটওয়্যার নির্মাতা সার্ভিস-নাউ এই তালিকায় যুক্ত হয়। এর আগের দিন অ্যাপল, হোম ডিপো এবং জিই ভারনোভা তাদের অসম্মতি জানায়। এই তালিকায় মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, এনভিডিয়া, জেপি মর্গান চেজ এবং ওয়ালমার্টের মতো মার্কিন করপোরেট জগতের জায়ান্ট কোম্পানিগুলো আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুধু প্রস্তাবিত তালিকার কোম্পানিগুলোই নয়, বরং ওয়েলস ফারগো, নেবিউস গ্রুপ, আর্ম হোল্ডিংস, সেলেব্রাস সিস্টেমস এবং সিগনা গ্রুপের মতো বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোও এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আপত্তি দায়ের করেছে।
এই পুরো বিষয়টি শুরু হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)-এর দেওয়া একটি সাময়িক ছাড়ের মাধ্যমে। এই বিশেষ অনুমতির ফলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কিছু প্ল্যাটফর্ম জাতীয় সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ হিসেবে নিবন্ধিত না হয়েও টোকেনাইজড শেয়ারের লেনদেন করতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে কোম্পানিকে অবহিত করতে হবে এবং আপত্তির জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে।
প্রস্তাবিত তালিকায় থাকা ৬২টি কোম্পানির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান আপত্তি জানায়নি। এদের অধিকাংশেরই ক্রিপ্টো বা ব্লকচেইন প্রযুক্তির সাথে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে সার্কেল ইন্টারনেট গ্রুপ, কয়েনবেস, রবিনহুড, বিটগো, স্ট্র্যাটেজি এবং সিকিউরাইজ। এছাড়া প্যালান্টিয়ার এবং সুপার মাইক্রো কম্পিউটারও এই তালিকায় রয়েছে।
নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক অ্যাপ্লাইড অপটোইলেকট্রনিক্স এই প্রক্রিয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছে, এই নতুন কাঠামোর ফলে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ, তার তারল্য এবং অস্থিরতার ওপর কী প্রভাব পড়বে তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের মনে এই ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে যে, কোম্পানি নিজেই এই অফারটিকে সমর্থন করছে। তাদের মুখপাত্র জানান, এই অনিশ্চয়তার মুখে কোম্পানি বা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো স্পষ্ট সুবিধা দেখা যাচ্ছে না। তবে বিপুল সংখ্যক কোম্পানির আপত্তির ফলে প্রকল্পের লঞ্চিং বা শুরুর তারিখ প্রভাবিত হবে কি না, সে বিষয়ে OKXICE কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।




