আশির দশকে বলিউডে যাত্রা শুরু করা অভিনেত্রী সোনি রাজদানের পেশাগত জীবন এক সময় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন, বিয়ের পর তাঁর অভিনয় জীবন কীভাবে হঠাৎ করে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৮১ সালে '৩৬ চৌরঙ্গী লেন' সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হওয়া সোনি পরবর্তীতে 'মান্ডি' ও 'সারাংশ'-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান। টেলিভিশনেও রমেশ সিপ্পির জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'বুনিয়াদ'-এর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। তবে ১৯৮৬ সালের ২০ এপ্রিল পরিচালক মহেশ ভাটকে বিয়ে করার পর তাঁর জীবনের মোড় বদলে যায়।
সোনির ভাষ্যমতে, বিয়ের আগে তিনি যে কাজগুলো হাতে নিয়েছিলেন তা শেষ করলেও, এরপর নতুন কোনো প্রস্তাব আর পাননি। তাঁর মনে হয়েছিল, দীর্ঘ প্রচেষ্টায় যে ক্যারিয়ার গড়েছিলেন, তা এক নিমেষে হারিয়ে গেছে। এর পেছনে তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করেছেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেত যে, একজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালকের স্ত্রী হয়ে তাঁর আর আলাদাভাবে কাজ করার প্রয়োজন নেই। সোনি রাজদানের এই অভিজ্ঞতা সেই সময়ের চলচ্চিত্র শিল্পের এক রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে, যেখানে নারীর বিয়েকে প্রায়শই পেশাগত জীবনের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।
দীর্ঘদিন ধরে সোনি শুধু মহেশ ভাটের স্ত্রী এবং পরবর্তীতে অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের মা হিসেবে পরিচিতির বেড়াজালে বন্দি ছিলেন। ২০২৫ ও ২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে জানান, সারা জীবন তাঁকে 'অন্য কারও কেউ' হিসেবে দেখা হয়েছে। অথচ আলিয়া ভাটের জন্মের অনেক আগেই তিনি নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে অভিনয় জগতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। এই পরিচয় সংকটের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই ছিল দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক।
তবে এই অন্ধকার সময় চিরস্থায়ী হয়নি। ১৯৮৬ সালে দূরদর্শনে প্রচারিত দেশভাগ পরবর্তী গল্পের ধারাবাহিক 'বুনিয়াদ' তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন আশার আলো দেখায়। সোনি মনে করেন, এই ধারাবাহিকটি না এলে তাঁর ফিরে আসা হয়তো আরও কঠিন হতো। এর মাধ্যমে তিনি পুনরায় অভিনয়ের মূল স্রোতে ফিরে আসেন এবং বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পান।
মজার বিষয় হলো, মহেশ ভাট ব্যক্তিগতভাবে স্ত্রীর অভিনয়ক্ষমতার যথেষ্ট প্রশংসা করলেও, তাঁর নিজের সিনেমায় সোনিকে প্রায়শই করুণ পরিণতিসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে হতো। সোনি রসিকতা করে জানান, স্বামী তাঁকে এমন সব চরিত্রে cast করতেন যেগুলো গল্পের মাঝপথেই মারা যেত। মহেশ ভাটের মতে, সোনির সূক্ষ্ম অভিনয়শৈলী মূলধারার সিনেমার প্রচলিত ধারার চেয়ে ভিন্ন ছিল, তাই তাঁর প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন করার মতো চরিত্র পাওয়া কঠিন ছিল।
২০১৮ সালে 'রাজি' সিনেমায় আলিয়া ভাটের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সোনি আবারও আলোচনায় আসেন। যদিও সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অভিনয়ের চেয়ে 'আলিয়ার মা' পরিচয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি 'ইয়োরস ট্রুলি' এবং 'সংস অব প্যারাডাইস'-এর মতো কাজসহ বিভিন্ন ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে বিয়ে বা মাতৃত্ব আর ক্যারিয়ারের অন্তরায় নয় দেখে সোনি রাজদান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তাঁর মেয়ে আলিয়ার সময়টি যে অনেক বেশি প্রগতিশীল, তা তিনি স্বীকার করেছেন।




